ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ রিভিউ

ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ রিভিউ


বাংলাদেশের অন্যতম সেরা গার্লস কলেজ ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ।ঢাকার নিউ বেইলি রোডে অবস্থিত কলেজটির প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৫২।লেডি ভিকারুন্নিসা নূন নিজ নামে নারী শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় ১০ একর আয়তনের কলেজটির মোট ১৪ টি গেইট।এর মধ্যে প্রধান গেইট বা মূল গেইট যেটি,সেটি তোমরা প্রায়ই পত্র-পত্রিকায় দেখতে পাও।প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করছে ভিকারুন্নিসার ছাত্রীরা। ২০২১ সালে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ভিকারুন্নিসা থেকে চান্সপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী মোট ৭৯ জন।এছারাও বুয়েট,গুচ্ছ ইঞ্জিনিয়ারিং সহ অন্যান্য জায়গায় ভিকি আছেই।

আমার কলেজ কিন্তু খুব সুন্দর।কলেজের কাঠগোলাপ,বাগান,পানির ফোয়ারা,ঝুলানো বারান্দা,রঙিন ছাউনি দেওয়া রাস্তা;ভিকারুন্নিসা একাই একটি পার্ক যেন।কলেজে আছে শিক্ষার্থীদের জন্য নিজস্ব লাইব্রেরি,ক্যান্টিন,আইটি বুথ,হলরুম,প্রতিটি বিষয়ের ইন্ডিভিজুয়াল ল্যাব,স্যানিটারি ন্যাপকিন মেশিন,ইমার্জেন্সি রুম,স্বাস্থ্য-সুরক্ষা ইউনিট এবং কলেজের অভ্যন্তরে ব্যাংকের বুথ।

· কলেজে বাইরে থেকে শিক্ষার্থী নেয়?

অবশ্যই,যদি তোমরা ভর্তি হতেই না পারো,তাহলে এই পোস্টটি লিখছি কেন?অনেকে বলে থাকে বিজ্ঞান বিভাগে বাইরে থেকে শিক্ষার্থী নেয়না,কিন্তু আদতে এটি সত্যি নয়।প্রতিটি বিভাগে বাইরের শিক্ষার্থী প্রতিবছর নেওয়া হয়,তুলনামূলকভাবে বিজ্ঞান বিভাগে বেশ কম শিক্ষার্থী নিয়ে থাকে।এর কারণ ও খুবই স্পষ্ট,যেহেতু স্কুলের শিক্ষার্থীদের বোর্ড নিয়মে বাধ্যতামূলকভাবে নিতেই হয়।বিজ্ঞান বিভাগ থেকে যেহেতু আমি পড়াশুনা করছি,তাই বিজ্ঞানের ব্যাপারেই বলি,একটু কম ছাত্রী নেওয়া হয়।ধরে নিতে পারো সর্বোচ্চ মেধাক্রম অনুযায়ী ৬০-৭০ জনের মত।তবে অন্যান্য বিভাগে এর অনেক বেশি নেওয়া হয়।

· পড়াশুনার মান কেমন?

পড়াশুনার মান উন্নত,এতটুক গ্যারান্টি আমি তোমাকে দিতে পারবো।শিক্ষকদের ক্লাস লেকচার ও পরীক্ষার প্রশ্ন দুটোই মানসম্পন্ন।বিগত বছরের টেস্ট পেপার দেখলে তোমরা বুঝতে পারবে।কলেজে ক্লাসের সময় সাধারণভাবে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১.৩০ পর্যন্ত।প্র্যাক্টিকাল ক্লাস এর মধ্যেই ভাগ করে শিফট করে দেওয়া হয়।আর হ্যা,দ্বিতীয় বর্ষে ওঠার সাথে সাথেই কিন্তু সপ্তাহের একদিন বাদে বাকিদিনগুলোতে প্র্যাক্টিকাল ক্লাস থাকবেই।আলাদাভাবে ল্যাবে উপস্থিতি যাচাই করা হবে।

এসো আমাদের শিক্ষকদের মাঝে কয়েকজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিই।জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের একটি একাডেমিক বই ,যেটি থেকে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নও আসে,মাজেদা আপার লেখা।মাজেদা আপা আমার নিজের ই দ্বিতীয় বর্ষের ক্লাসটিচার ছিলেন।এছাড়াও আমরা কমনলি যে গাজি আজমল-আজমত স্যারের বই পড়ি,সেখানে সহযোগী লেখক নাসিম আপাকে অনলাইন দুনিয়ায়ও বিভিন্ন ভিডিওতে হয়তো কেউ কেউ দেখেছো।উচ্চতর গণিতে নাসরিন আক্তার আপার বই ও বেশ সমাদৃত।

একটি কলেজের পড়াশুনার মান শিক্ষার্থীদের উপরেই আমাদের দেশে নির্ভর করে। এখানে আমি একটু বলতে চাই,সত্যি কথা হচ্ছে,একটি কলেজ তোমাকে পড়াশুনার সঠিক পরিবেশ,সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে কিনা,সেটিই তোমার দেখার বিষয়।যদি একজন সেরা হয়,সেটা তুমি কেন হবে না?নিজের উপর ভরসা রাখো।পড়াশুনাতা কিন্তু আসলে তোমার নিজের ই।

· ফি ও বেতন

আমাদের সেশনে [এস এস সি ২০২০] কলেজ বেতন ছিলো ২১০০ টাকা।যারা ট্যালেন্টপুল স্কলারশিপ পাবে এস এস সি তে তাদের বেতনশূন্য ও জেনারেল বৃত্তিধারীদের অর্ধবেতনের নিয়ম।আমার যেহেতু জেনারেল গ্রেড স্কলারশিপ,তাই আমার অর্ধবেতন ছিলো।পরীক্ষার ফি ১৫০০ টাকা।

বেতন ও শিক্ষার্থীর সার্বিক তথ্যের জন্য থাকে একটি অনলাইন স্টুডেন্ট প্রোফাইল,এই প্রোফাইল ব্যবহার করে বেতন অনলাইন বা অফলাইন যেকোনো মাধ্যমে পরিশোধ করা যায়।অফলাইনে করতে চাইলে আইটি বুথ এ প্রোফাইল থেকে বেতন এর ডকুমেন্ট প্রিন্ট করে কলেজের ভেতরেই সোনালি ব্যাংক বুথে পরিশোধ করা যায়।এর বাইরেও সোনালি ব্যাংকের যেকোনো ব্র্যাঞ্চ থেকেই পরিশোধ করা যায়।

· ক্লাবসমূহ

কলেজে আছে বেশ কিছু ক্লাব।সাইন্স ক্লাব,ডিবেটিং ক্লাব,আর্থ ক্লাব,এস্ট্রোনোমি ক্লাব,ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব,স্পোর্টস ক্লাব[ফুটবল-ভলিবল-হ্যান্ডবল],মার্শাল আর্ট ক্লাব ইত্যাদি।ক্লাবগুলোর উদ্যোগে প্রতি বছর ফেস্টের আয়োজন করা হয়।সাম্প্রতিক জাতীয় স্কুল হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতায় ভিকিরা কিন্তু চ্যাম্পিওন হয়েছে।

· ভর্তি যোগ্যতা

আমি যেহেতু বিজ্ঞান বিভাগের,তাই এটি নিয়েই বলছি।আমাদের সময়ে,আমার এস এস সি ২০২০,এ সময়ে মোট নম্বর ছিলো ১৩০০। এর মধ্যে কলেজে আমার জানামতে ১২১৪ ছিলো সর্বশেষ নম্বর-এলাউ হওয়ার।এটি কিন্তু দ্বিতীয় ধাপে ওয়েটিং এর এর শেষ নম্বর।সুতরাং বুঝতেই পারছো,তোমার নম্বর যদি ভালো হয়,তবেই তুমি ভিএন্সিতে এপ্লাই করতে পারো।এ বছর নম্বর কেমন উঠেছে তা তো বলতে পারবোনা,তবে মার্ক ভালো-মন্দ তোমরা নিজেরা ভেবে-চিন্তে এপ্লাই করতে পারো।

অন্যান্য বিভাগের যোগ্যতা কলেজের ওয়েবসাইটে অনলাইন নোটিশ বোর্ড এ দেওয়া থাকবে,সেখান থেকে দেখে নিলেই হবে।এছাড়াও ফেসবুক পেইজঃ নুন বাতায়ন এ চোখ রাখতে পারো।

· ইউনিফর্ম

আকাশী কলারযুক্ত কামিজ হাঁটুর নিচ পর্যন্ত[কলার অবশ্যই দিতে হবে],সাদা ক্রসবেল্ট,আকাশী বেল্ট আর নির্ধারিত কেডস।কামিজের হাতা শর্ট অথবা ফুল যেকোনো একটি হবে।থ্রিকোয়ার্টার হাতা প্রযোজ্য নয়।শর্ট হাতার লেন্থ কনুই থেকে তিন আঙুল উপরে হবে।এর চেয়ে ছোট করা যাবেনা।কলারের নিচে আইডি কার্ড পরতে হবে।বাম কলারে মনোগ্রাম পরতে হবে।কামিজের বাম হাতায় বিভাগ নির্ধারনী ব্যাচ পরতে হবে।বিজ্ঞানের জন্য খুব সম্ভবত এ বছর তোমাদের ব্যাচ দেওয়া হবে ব্লু,মানবিকে সাদা ও ব্যাবসায় শিক্ষায় সবুজ।এগুলো কলেজ থেকে প্রোভাইড করা হবে।চুলে বাড়তি কোনো দৃষ্টিকটু ক্লিপ ব্যবহার করা যাবেনা,ফিতার রঙ সাদা,নীল বা কালো হতে হবে।অন্য রঙ পরা যাবেনা।কানের দুল অনেক বড় বা দৃষ্টিকটু হওয়া যাবেনা।

যারা হিজাব করবে,তারা হিজাবের উপরে বাম পাশে মনোগ্রাম পরবে।মনে রাখবে,মনোগ্রাম অবশ্যই শো করতে হবে,নইলে কলেজ শিক্ষার্থী কাউন্ট হবেনা।যারা আমার মত ফেস শো করোনা,নিকাব করতে চাচ্ছো,সেটিও করতে পারবে,এ ব্যাপার নিয়ে কলেজে কোনোরকম বুলিং/হ্যারাসমেন্ট এর কোনো ব্যাপার নেই ইন শা আল্লাহ।

· ঢাকার বাইরে থেকে বলছি……

ঢাকার বাইরে থেকে যারা আসবে,তাদের জন্য ব্যক্তি উদ্যোগে এখানে বেশ কিছু হোস্টেল আছে,সিদ্ধেশ্বরীতে[কলেজের পাশে]।সিদ্ধেশ্বরীতে যেহেতু আমার বাসা ছিলো,এখানে থেকেছি পরিবার নিয়ে,এটি বেশ নিরাপদ এলাকা।ভয় পাওয়ার কিছু নেই।দেখবে অনেকেই এখানে থাকছে বন্ধুরা মিলে।একেকটা রুমের ভাড়া আনুমানিক ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার হবে।

তাহলে নতুন ভিকি যারা হতে যাচ্ছো,তাদের জন্য অনেক শুভকামনা।ভিকারুন্নিসাকে দিয়ে দাও তোমার চয়েজ লিস্টের এক নম্বরে!

আরো জিজ্ঞাসা থাকলে কমেন্ট/ইনবক্স করতে পারো।তবে একটি ছোট্ট অনুরোধ,যেহেতু আমার এইচ এস সি এক্সাম চলছে,লিখিত ৮ তারিখ শেষ। সেদিন দুপুরের পর থেকে মেসেজ দিও,এর আগে হয়তো অনলাইনে আসা হবেনা।এখোনো দুটো পরীক্ষা বাকি!

Read Also :

Getting Info...

Post a Comment

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.