বিরহের অশ্রু নতুন গল্প

দাদীর ঘরে ঢুকতেই সে বিস্ময়ে থমকে দাঁড়াল। দাদী জায়নামাযে বসে কাঁদছেন! কাছে গিয়ে দেখল, দাদী মাথা নিচু করে বসে আছেন। চোখ বেয়ে গাল গড়িয়ে অশ্রুর ফোঁটা জায়নামাযে পড়ছে। নাতিকে দেখে তিনি সংবিৎ ফিরে পেলেন। প্রকৃতিস্থ হয়ে মাথা তুলে তাকালেন। এরপর তাকে কাছে টেনে নিয়ে কপালে চুমু খেলেন। সে পরমানন্দে দাদীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাল। দাদী চোখ মুছে হাসিমুখে উত্তর দিলেন।

এরপর অনেক বছর কেটে গেছে। ছেলেটির জীবন থেকে অনেকগুলো ঈদ ও রামাদান চলে গেছে। সে এখন যথেষ্ট বড় হয়েছে। ইতোমধ্যেই বুঝতে পেরেছে যে, দাদীর ওই অশ্রু ছিল প্রিয় মাসকে হারানোর অশ্রু। রামাদান বিদায় ও বিরহের অশ্রু। ভালো কাজের মৌসুম এলে যে-ব্যক্তি খুশি হয়, তার জন্য এটি কষ্টের মুহূর্ত। সে চায় সারা বছরই যদি রামাদান মাস হতো!

কিন্তু ছেলেটি যখন বড় হলো, দেখল—সবকিছু কেমন যেন বদলে গেছে। যে-চোখ দিয়ে সে একসময় রামাদানের বিদায়-বিরহে অশ্রু ঝরাতে দেখেছিল, সে চোখ দিয়েই এখন শাওয়ালের চাঁদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে রামাদান থেকে বেঁচে যাওয়ার আনন্দ-উল্লাস দেখতে পাচ্ছে।

ঈদের ঘোষণা আসার সাথে সাথেই এখন অনেকে ইবাদাত ছেড়ে দেয়। যেন ঈদ মানেই রবের আনুগত্য বর্জনের মহোৎসব, ফরয-ওয়াজিবসহ সমস্ত ইবাদাত থেকে পালিয়ে বাঁচার পরমানন্দ; অন্যায় ও পাপাচারের শুভসূচনা!

রামদান শেষ হতেই মসজিদ মুসল্লিশূন্য! অপরদিকে বাজার, চায়ের দোকান ও সিনেমা হল লোকে লোকারণ্য। ঈদের পরবর্তী জুমআয় সে খতীবের কণ্ঠে শুনতে পেল, 'রামাদানে আমাদের সাথে যারা সালাত আদায় করত তারা কোথায়? তারা সমগ্র রামাদান ঠিকমতো সালাত আদায় করেছে। তাদের উপস্থিতি ও যিকির- -আজকারে মসজিদ মুখরিত থেকেছে—কিন্তু এখন তারা কোথায়? রামাদানের ওই মানুষগুলো কি তবে ভিনগ্রহ থেকে এসেছিল??

📙বইয়ের নাম: অশ্রুজলে লেখা
📖গল্পের নাম: বিরহের অশ্রু
🖋️লেখকের নাম: শাইখ আব্দুল মালিক আল কাসিম
Read Also :

Getting Info...

Post a Comment

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.